নরসিংদীর পলাশ উপজেলা যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলু’র প্রায় ৭ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ক্রোক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে দুদক, সম্মিলিত জেলা কার্যালয় গাজীপুর-এর সহকারী পরিচালক মো. এনামুল হক এর নেতৃত্বে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজিরচরে আদালতের নির্দেশনায় এ সম্পদ ক্রোক করা হয়। এসময় পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুবক্কর সিদ্দিকী রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দুদক জানায়, দেলোয়ার হোসেন দেলুর বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে দেলুর ৬ কোটি ৮১ লাখ টাকার সম্পদ অবৈধ হওয়ায় তা রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নিতে আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. এনামুল হক। পরবর্তীতে নরসিংদীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ হুমায়ুন কবীর ওই সম্পদ ক্রোক ও রিসিভার নিয়োগের আদেশ দেন।
আদেশের প্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে দুদক টিম দেলুর ক্রোকযোগ্য দুটি ভবন জব্দ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে বুঝিয়ে দেয়। কাজিরচর গ্রামের ২৭ শতাংশ জমিতে নির্মিত ২ হাজার ৩০৪ বর্গফুটের তিনতলা ডুপ্লেক্স বাড়ি, মূল্য ৩ কোটি ১৩ লাখ ২৭ হাজার ৪৪ টাকা।
একই গ্রামে ৬ শতাংশ জমিতে নির্মিত ৩ হাজার ৬৫০ বর্গফুটের পাঁচতলা ভবন, মূল্য ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৮ হাজার ২৫৭ টাকা
মোট জব্দকৃত সম্পদের মূল্য— ৬ কোটি ৮১ লাখ ৩৫ হাজার ৩০১ টাকা।
অভিযানে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মশিউর রহমান, পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুবক্কর সিদ্দিকী, নরসিংদী জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সিনিয়র সদস্য হলধর দাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেলোয়ার ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হন। এরপর শীতলক্ষাসহ আশপাশের এলাকায় কৃষি জমি থেকে অবাধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তিনি একটি সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীও তৈরি করেন।
গত ১৭ বছরে তিনি শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পলায়নের পর এলাকা থেকে পালিয়ে যান দেলু।
পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুবক্কর সিদ্দিকী বলেন, “আদালতের নির্দেশনায় দুইটি ভবন ক্রোক করে আমি রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সম্পদ যাতে বেহাত বা বিক্রি না হয়, সেজন্যই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবনগুলোর ভাড়াটিয়াদের দ্রুত অন্যত্র যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।”





