যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কূটনৈতিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন এই অভ্যর্থনার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে রাজা চার্লসের প্রতিনিধি লর্ড লেফটেন্যান্ট ডেরিক এন্ডারসন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পেরি বার এলাকার সংসদ সদস্য আইয়ুব খান, ওয়েস্ট ব্রোমিচ এলাকার সংসদ সদস্য সারাহ কুম্বেস, বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের লর্ড মেয়র কাউন্সিলর জাফর ইকবাল, সলিহল মেট্রোপলিটন কাউন্সিলের মেয়র কাউন্সিলর এনেট ম্যাকেঞ্জি, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের পুলিশ ও ক্রাইম কমিশনার সাইমন ফোস্টার, বার্মিংহাম কনস্যুলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও রোমানিয়ার কনসাল জেনারেল মাহায়েলা সাভু, পাকিস্তানের কনসাল জেনারেল ফাহাদ আমজাদ এবং ভারতের কনসাল জেনারেল ড. ভেঙ্কাটাচালাম মুরুগান।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বিভিন্ন শহরের মেয়র, ডেপুটি মেয়র, কাউন্সিলর, স্থানীয় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তারা, রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নারী নেত্রী ও সাংবাদিকেরা অংশ নেন।
যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের সব শহীদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সহকারী হাইকমিশনার সুজন দেবনাথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ৫৫তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা জানান। তিনি ও প্রধান অতিথি বার্মিংহামে বসবাসকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ হামিদকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা দেন। পরে অতিথিদের নিয়ে জাতীয় দিবসের কেক কাটা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতার ৫৫তম বার্ষিকীতে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ব্রিটিশ–বাংলাদেশিদের অবদানের প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সমাপনী বক্তব্যে সহকারী হাইকমিশনার মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ বার্মিংহামের স্মল হিথ পার্কে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে প্রবাসী বাঙালিদের সমাবেশ ও তহবিল সংগ্রহের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিশেষ করে পশ্চিম মিডল্যান্ডস অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ব্রিটিশ–বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে অংশগ্রহণকারীদের সনদপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের জন্য বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী খাবারের নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।




