মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জমি দখলের জের ধরে টানা ১১ মাস ধরে একটি পরিবারকে ঘরবন্দী করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের বন্ধ করে দেওয়া চলাচলের পথ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবরুদ্ধ জীবন পার করছেন উপজেলার সাতগাঁও ইউনিয়নের আঐ গ্রামের স্কুল শিক্ষক আব্দুর রহিম (৭০)–এর পরিবার।
গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব্দুর রহিমের ছেলে নূরুল আফসার সাইফুল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চলাচলের একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘর থেকে বের হতে পারছেন না তাঁরা। জরুরি প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়ির উঠোন ব্যবহার করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লছনা হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম অবসর গ্রহণের পর পরিবারসহ গাজীপুরে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন এলাকার বাইরে থাকার সুযোগে তাঁর ভাতিজা আজাদ মিয়া (৩৫) ও আরও কয়েকজন আত্মীয় বসতভিটা দখলের চেষ্টা চালান। অভিযোগ রয়েছে, তারা ভিটায় থাকা ৭০ থেকে ৮০টি গাছ কেটে ফেলেন এবং বাড়ির কিছু অংশ দখল করেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের সূচনা হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে আব্দুর রহিম পরিবার নিয়ে বসতভিটায় ফিরে আসেন। এরপরই ভাতিজা আজাদ মিয়া টিনের বেড়া ও বড়ই গাছের কাটা দিয়ে বাড়ির একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। এতে কার্যত ঘরবন্দী হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
প্রতিবেশী দুলাল মিয়া বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে এই রাস্তা দিয়ে সবাই চলাচল করে আসছি। রাস্তাটা সব সময় খোলা ছিল। কিন্তু শত্রুতার জের ধরে আজাদ মিয়া পথটা বন্ধ করে দেয়।’
অভিযোগের বিষয়ে আজাদ মিয়া বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাস্তা বন্ধই থাকবে।’
সাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাহমুদ আলী বলেন, ‘মাস্টার সাহেবের পরিবারের চলাচলের রাস্তা খুলে দিতে আজাদ মিয়াকে বারবার বলা হয়েছে। কিন্তু সে কথা শোনেনি। জোর করে রাস্তা খুলে দেওয়া সম্ভব না।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





