সুনামগঞ্জ শহরকে ক্লিন শহর হিসেবে গড়ে তোলা, মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত করা, শহরের খাল উদ্ধার এবং জেলা শহরে রেললাইন সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ সার্বিক উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ–৪ আসনের তিনজন এমপি প্রার্থী। এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘জনতার মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রার্থীরা ভোটারদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব অঙ্গীকারের কথা জানান। তাঁরা বলেন, নির্বাচিত হলে সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় কোনো ধরনের উন্নয়ন বৈষম্য করা হবে না।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য জাদুঘর মাঠের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা সুজনের সভাপতি নুরুল হক আফিন্দী।
অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা শহীদুল ইসলাম পলাশী এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী নাজমুল হুদা হিমেল। প্রার্থীরা ভোটারদের প্রশ্নের উত্তরে নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জনস্বার্থে গ্রহণযোগ্য বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
ভোটারের প্রশ্নের জবাবে দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন বলেন, নির্বাচিত হলে সুনামগঞ্জের কামারখালসহ অন্যান্য খাল আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলা শহরে রেললাইন সংযোগ স্থাপন এবং সুনামগঞ্জকে ক্লিন, মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী নাজমুল হুদা হিমেল বলেন, তরুণ সমাজকে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে তুলতে কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে, যাতে কাজের সন্ধানে ঢাকাসহ অন্য জেলায় যেতে না হয়। পরিবেশবান্ধব উপায়ে বালুমহাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাজারো শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সুনামগঞ্জ গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা শহীদুল ইসলাম পলাশী বলেন, নির্বাচিত হলে উত্তর সুরমা এলাকায় সেতু নির্মাণ, নারীদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচিত না হলেও দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত সুনামগঞ্জ গড়তে জনগণের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ উপস্থিত থেকে প্রার্থীদের বক্তব্য শোনেন এবং নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। জেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাইদ ও ডি এফ কর্ণবাবু দাস যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এ সময় সহকারী কমিশনার রায়হান উদ্দিন ও আবু সালেহ মোহাম্মদ ইউসুফ, জেলা সুজনের সিনিয়র সহসভাপতি আলী হায়দারসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা সুজনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মহিবুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, কলামিস্ট সুখেন্দু সেন, সদর উপজেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম পলাশ, জেলা সুজনের নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট খলিল রহমান ও মাসুম হেলাল।





