বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রার্থী ঘোষণার পর মৌলভীবাজারে চারটি সংসদীয় আসনেই তৃণমূলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মনোনয়নবঞ্চিতদের অসন্তোষ, শোডাউন ও সম্ভাব্য বিদ্রোহী প্রার্থিতার কারণে অন্তত তিন আসনে বিএনপির অবস্থান দুর্বল হতে পারে—এমন ধারণা স্থানীয় নেতাদের।
দলীয় সূত্রের তথ্য বলছে, জেলার চারটি আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন অন্তত ১২ জন। গত ৩ নভেম্বর সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর বঞ্চিত নেতারা প্রকাশ্যে নীরব থাকলেও ভেতরে ক্ষোভ জমছে। কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।
মৌলভীবাজার–১: এলাকাভেদে সমীকরণ ভিন্ন
বড়লেখা–জুড়ী আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জুড়ীর নাসির উদ্দিন মিঠু। বঞ্চিত শরিফুল হক সাজু বড়লেখার মানুষ—যেখানে ভোটার তুলনামূলকভাবে বেশি। এ আসনের জামায়াত প্রার্থী আমিনুল ইসলামও বড়লেখার বাসিন্দা। এলাকাভিত্তিক সমীকরণ ভোট ব্যাংকে প্রভাব ফেললে বিএনপি প্রার্থী চাপে পড়তে পারেন বলেই স্থানীয় নেতাদের ধারণা।
মৌলভীবাজার–২: পুনর্বিবেচনার দাবিতে শোডাউন
কুলাউড়া আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী শওকতুল ইসলাম শকু। কিন্তু দীর্ঘদিন আন্দোলনে সক্রিয় থাকা এএনএম আবেদ রাজার অনুসারীরা পুনর্বিবেচনার দাবিতে শোডাউন করেছেন। এই অসন্তোষে লাভবান হতে পারে জামায়াতের প্রার্থী, জেলা আমির প্রকৌশলী সাহেদ আলী।
মৌলভীবাজার–৪: মনোনয়ন না পেয়ে মাঠে মধু
শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ আসনে দল প্রার্থী করেছে আলহাজ মুজিবুর রহমানকে। বঞ্চিত সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু ইতোমধ্যে মাঠে সরব। তিনি সরাসরি বলেন, ‘মনোনয়ন পাই বা না পাই—নির্বাচনে আছি।’ স্থানীয় নেতাদের মতে, এই অবস্থান বিএনপির ভোট সমীকরণে চাপ তৈরি করতে পারে।
মৌলভীবাজার–৩: বিদ্রোহ নেই, তবু ক্ষোভ আছে
সদর–রাজনগর আসনে বিদ্রোহী প্রার্থিতা না থাকলেও ক্ষোভ আছে তৃণমূলে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমানকে প্রার্থী ঘোষণার পর তিনি এখনও জেলা নেতাদের সঙ্গে কোনো মতবিনিময় সভায় বসেননি—এ কারণে অনেক নেতাকর্মী নাখোশ।





