সিলেট-৩ সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচনী রাজনীতিতে ধীরে ধীরে একটি নীরব কিন্তু লক্ষণীয় পরিবর্তন চোখে পড়ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা রেদওয়ানুল হক চৌধুরী রাজু ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছেন, যা এখন আর কেবল প্রতীকী অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং ক্ষমতাসীন দল, ধান প্রতীক ও অন্যান্য জোটভুক্ত প্রার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তিনি মাঠে সক্রিয় ও দৃশ্যমান উপস্থিতি বজায় রেখেছেন।
নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক জোটের অংশ হিসেবে থাকায় রেদওয়ানুল হক চৌধুরী রাজু সেই পরিচয়ের মধ্য দিয়েই ভোটারদের কাছে পৌঁছান। সে সময় মাঠপর্যায়ে তার গণসংযোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। ধর্মীয় ও সামাজিক পরিমণ্ডলে পরিচিত মুখ হওয়ায় সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তাকে গ্রহণ করে। ব্যক্তিগত যোগাযোগ, সরাসরি মানুষের কথা শোনা এবং মাঠে নিয়মিত উপস্থিতি তার প্রচারণাকে শুরু থেকেই আলাদা মাত্রা দেয়।
এই পর্যায়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়ায়—জোটের পক্ষ থেকে তাকে সিলেট-৩ আসনে নির্বাচন করার চূড়ান্ত বৈধতা দেওয়া হতে পারে। তবে রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলে যায়। জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তার জন্ম দেয়। তবুও সেই ধোঁয়াশা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত মাওলানা রেদওয়ানুল হক চৌধুরী রাজু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে নামেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জোট থেকে বেরিয়ে আসার পরও তার প্রচারণায় বড় কোনো ধাক্কা লাগেনি। বরং নিজস্ব দলীয় কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি ধর্মপ্রাণ ও নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিতে বিশ্বাসী ভোটারদের একটি অংশ তার পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গায় সীমিত সম্পদের মধ্যেও ধারাবাহিক প্রচারণা তার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়িয়েছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই ‘হাতপাখা’ প্রতীকটি ভোটারদের আলোচনায় আরও বেশি জায়গা করে নিচ্ছে।
তবে বাস্তবতা হলো—সিলেট-৩ আসনের লড়াই সহজ নয়। ধান প্রতীকসহ একাধিক শক্তিশালী দলীয় ও জোটভুক্ত প্রার্থী এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক ও বিপুল সম্পদের সুবিধা। সে তুলনায় ইসলামী আন্দোলনের এই লড়াই অনেকটাই নির্ভর করছে জনসমর্থন, নৈতিক অবস্থান এবং শেষ মুহূর্তের ভোটের সমীকরণের ওপর।
সব দিক বিবেচনায় বলা যায়, সিলেট-৩ আসনে মাওলানা রেদওয়ানুল হক চৌধুরী রাজু ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অবস্থানকে আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। নীরবে তৈরি হওয়া হাতপাখার এই জোয়ার শেষ পর্যন্ত কতটা প্রভাব ফেলতে পারে—তা নির্ধারণ করবে ভোটের দিন। সে কারণেই এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাধারণ ভোটার ও নেটিজেনদের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে সিলেট-৩ আসনের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে।




