এদেশে মুক্তিযুদ্ধে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অবদান ছিলো সবচেয়ে বেশি, কিন্তু সেই অবদানকে আওয়ামী-বামেরা নাই করে দিয়ে তাদের কপালেই এঁকে দিয়েছে কলঙ্ক। মুসলিমদের আত্মপরিচয় ও স্মারককে দিয়েছে ঘৃণ্য তকমা। সেই দাগ এখনো বহন করতে হচ্ছে। জুলাইর আগে এই দাগের অজুহাতে মাথা তুলতে দেওয়া হয়নি এদেশের ধর্মপ্রাণ জনতাকে।
জুলাইয়ে তাই আমরা সোচ্চার ছিলাম ধর্মপ্রাণ জনতার, আলেম-উলামার, নামাজ-হিজাবের স্টেক ধরে রাখতে। যাতে করে মুক্তিযুদ্ধের মতো জুলাইর অবদানকেও ছিনতাই করা না হয়। আমাদের উপস্থিতির জানান দিতে, হাসিনার হিংস্ররোষ উপেক্ষা করে গঠন করেছিলাম নাগরিক আলেমসমাজ। ছিলাম রাজপথে। নামে-বেনামে আন্দোলনে ছিলেন লাখো আলেম-উলামা।
জুলাইয়ের প্রাণ ছিলো তপ্ত রোদে-বৃষ্টিতে রাজপথে লড়াকুদের নামাজ। আল্লাহু আকবর স্লোগান দিয়েছিলো বদর-উহুদের প্রেরণা। ১৫ জুলাই ঢাকার রাজপথে যখন ছাত্রলীগ উন্মত্ত হায়েনার মতো ঝাপিয়ে পড়েছিলো ঢাবির শিক্ষার্থীদের ওপর, বেধড়ক পেটাচ্ছিলো নিরীহ হিজাবী ছাত্রীদের, সেদিনই পালটে গিয়েছিলো দৃশ্যপট। খুনীর পতন লেখা হয়ে গিয়েছিল আসমানে।
ছাত্রীদের হল থেকে বেরিয়ে আসা আপাদমস্তক বোরকা-হিজাবে ঢাকা তরুণীর বীরোচিত উপস্থিতি আন্দোলনের ইতারে ইতারে ছড়িয়েছিলো সাহসের আগুন। জুলাইর আইকন হয়ে উঠেছিলো হিজাব, নামাজ। ভারতীয় হেজিমনির রবীন্দ্রীয় মেকি আয়োজন-গান ছেড়ে দিয়ে তরুণ-যুবার কণ্ঠে উত্তাপ ছড়িয়েছিলো তাকবির স্লোগান।
এই পরিবর্তন, ভারতীয় হেজিমনি জ্বালিয়ে দেওয়ার আগুনকেই ভয় অন্ধকারের বাসিন্দাদের। জুলাইর পর তাই ‘ডানপন্থার উত্থান’ বলে অর্গেনাইজড প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হলো। সেটা হালে পানি পায়নি। মানুষ আরও আকৃষ্ট হচ্ছিলো ধর্মের দিকে। দল নাই, সংগঠন নেই এমন হাদির জানাযায় প্লাবনের মতো যোগ দিয়েছে মানুষ। এরা ভ্রাতৃপ্রেম থেকেই সেখানে গিয়েছেন। এখনো একই কারণে তাকে স্মরণ করেন।
এদেশের মানুষ যখন ধর্মীয় মর্যাদা সংরক্ষণে লড়ছে, তখন দুর্ভাগ্যজনকভাবে আওয়ামী-বামেদের মতো এক দল নতুন করে মৌল-বাদ, উ-গ্রবাদ জিগির তুললো। দেড় বছর এই জিগির করে ভোটের আগে তারা বেছে বেছে আ-ঘা-ত হানল বোরকা-হিজাবের ওপর। রীতিমতো প্রেসব্রিফিং করে বোরকাফোবিয়া ছড়ানো হলো। বলি, বোরকা পরে কেউ অতীতে জাল ভোট দিয়েছে, এমন কোনো নজির আছে?
মুক্ত পরিবেশে, দেশের সবচেয়ে উৎসবমুখর নির্বাচনে যখন দ্বীনদার নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোট দিতে আগ্রহী, তখন কেন শীর্ষ পর্যায় থেকে বোরকাফোবিয়া ছড়ানো হলো? তারা কি ভয় পান, দ্বীনদার, ধর্মপ্রাণ নারীরা তাদের ভোট দেবে না!





