সাইপ্রাসে একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা–এর খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাতারাতি নেওয়া এক সিদ্ধান্তে যুক্তরাজ্য সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট ও সীমিত প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এমন অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে এখন তিনি বলেছেন, কেবল খুব নির্দিষ্ট ও সীমিত প্রতিরক্ষামূলক প্রয়োজনে এসব ঘাঁটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
সম্ভাব্য ব্যবহারের মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র গুদাম ও উৎক্ষেপণযন্ত্র লক্ষ্য করে হামলা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যাতে উপসাগরীয় মিত্রদেশগুলোর ওপর ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকানো যায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যে ঘাঁটিগুলো ব্যবহৃত হতে পারে তার মধ্যে রয়েছে ইংল্যান্ডের গ্লস্টারশায়ারে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ড, যা লন্ডন থেকে প্রায় ১১৬ কিলোমিটার দূরে। এছাড়া ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া–র কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সাইপ্রাসের সমকক্ষ নেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং আশ্বস্ত করেছেন যে সাইপ্রাসকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। তাঁর দাবি, ঘটনাটি ইরানের নির্বিচার গোলাবর্ষণের ফল।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তটি একটি বড় নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। সরকার এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সিদ্ধান্তটি বৈধ বলে মনে করার কারণ ব্যাখ্যা করে আইনি পরামর্শও প্রকাশ করেছে, যা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগের মাত্রা স্পষ্ট করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এখন মূল প্রশ্ন হলো—যুক্তরাষ্ট্র পূর্বনির্ধারিত শর্ত মেনে চলবে কি না এবং ঘাঁটিগুলোর ব্যবহার কেবল প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যেই সীমাবদ্ধ রাখবে কি না।




