প্রবাসীদের অধিকার ও দাবি–দাওয়া আদায়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে। সংগঠনটির সাউথ ইস্ট রিজিওনের উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের একটি কমিউনিটি সেন্টারে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে এ অঙ্গীকার করা হয়।
গত ১২ মার্চ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কমিউনিটির ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
সাউথ ইস্ট রিজিওনের কনভেনর ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে এবং জয়েন্ট কনভেনর সৈয়দ সায়েম করিম ও আব্দুল বাসিত রফির যৌথ সঞ্চালনায় ইফতার–পূর্ব আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের পেট্রন ও শিক্ষাবিদ ড. হাসানাত এম হোসাইন এমবিই।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ওয়ালিদ মোহাম্মেদ, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব কে এম আবু তাহের চৌধুরী, যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের কেন্দ্রীয় কনভেনর মোহাম্মদ মকিস মনসুর, কো–কনভেনর মসুদ আহমদ, মেম্বার সেক্রেটারি ড. এম মুজিবুর রহমান, জয়েন্ট কনভেনর জামাল হোসেন, সাবেক সেক্রেটারি মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম কয়সর, সিরাজ হক, সাংবাদিক রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী শুয়েব, মাওলানা আব্দুল কাদের সালেহ, কাউন্সিলর মুজিবুর রহমান জসিম, টিভি টুয়ান্টি ফোরের চেয়ারম্যান মো. মাসুদুর রহমান, সেফ অনলাইনের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল মুমিন ছালিক, দ্য সোসাইটি অব ব্রিটিশ বাংলাদেশি সলিসিটরসের সভাপতি মুহাম্মদ নূরুল গাফ্ফার, মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, ড. আজমল চৌধুরী, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ শহীদ, ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান, কবি মুজিবুল হক মনি, ট্রাভেল ব্যবসায়ী লুতফুর রহমান সায়েদ, আজম আলী, আবু তাহের ও আব্দুর রবসহ অনেকে।
ইফতারের আগে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং কমিউনিটির সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন মুফতি সৈয়দ মাহমুদ আলী লংলী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। সব এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে এটিকে পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দরে রূপ দিতে হবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, প্রবাসীদের অধিকার ও দাবি–দাওয়া আদায়ে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের ভূমিকা ইতিমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। ভবিষ্যতে সংগঠনটিকে আরও সক্রিয় ও সোচ্চার হয়ে কাজ করতে হবে। প্রবাসীদের ঐক্য, সামাজিক উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে প্রবাসীদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সংগঠনটির ভূমিকা জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
ইফতারের পর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কনভেনর মোহাম্মদ মকিস মনসুরের সভাপতিত্বে এবং মেম্বার সেক্রেটারি ড. এম মুজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় এক সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইস্ট লন্ডন, নর্থ লন্ডন ও এসেক্স শাখার কমিটি অনুমোদন করা হয়।
ইস্ট লন্ডন শাখায় শাহ চেরাগ আলীকে সভাপতি, আজম আলীকে সিনিয়র সহসভাপতি, আজিজুল আম্বিয়াকে সহসভাপতি এবং আব্দুল বাসিত রফিকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করা হয়। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে জাহাঙ্গীর হোসেন এবং সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে জোবায়ের কিবরিয়া দায়িত্ব পেয়েছেন।
নর্থ লন্ডন শাখায় গিয়াস উদ্দিনকে সভাপতি, শিহাব উদ্দিনকে সিনিয়র সহসভাপতি, হেনা বেগম, তুহিন আহমদ, রুহুল আমিন ও আব্দুল মালিককে সহসভাপতি এবং সৈয়দ ফরহাদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হয়েছেন দৌলত হোসেন।
এ ছাড়া এসেক্স শাখায় তৌরিস আহমদকে আহ্বায়ক, নুরুল ইসলামকে সদস্যসচিব এবং হেলেন ইসলাম ও ফারহান সাদিক খানকে জয়েন্ট কনভেনর করে ১৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়। এতে সদস্য হিসেবে জুবেল আহমদ বেলালসহ অন্যরা রয়েছেন।
সভায় আগামী দুই মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার আহ্বান জানানো হয়।
সবশেষে কেন্দ্রীয় কনভেনর মোহাম্মদ মকিস মনসুর উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।




