সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতুর পাঁচটি গার্ডার নদীতে পড়ে গেছে। সোমবার ভোররাতে সেতুর পূর্ব পাশের ৩ ও ৪ নম্বর পিলারের ওপর থাকা গার্ডারগুলো ভেঙে নদীতে পড়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন জানান, ভোরে বিকট শব্দ শুনে তাঁরা নদীর পাশে গিয়ে দেখেন, সেতুর পূর্ব অংশের পাঁচটি গার্ডার নদীতে পড়ে আছে। তাঁদের অভিযোগ, সেতুর পাশ থেকে দিনে শেভ মেশিন ও রাতে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের কারণে সেতুটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগও রয়েছে। এর আগে আরও দুই দফা সেতুর গার্ডার ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে যাদুকাটা নদীর বিন্নাকুলি-গরকাটি এলাকায় ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। তিন বছরের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২১ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন প্রকল্পটির কাজ পায়। পরে কয়েক দফা ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়ায় ১২৯ কোটি টাকায়। তবে ২০২৬ সালেও সেতুর প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাকিল আহমেদ বলেন, ‘স্বপ্নের সেতু নির্মাণের আগেই ভেঙে পড়ছে। কাজ শেষ হওয়ার পর চলাচলের সময় এমন ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের প্রাণহানি হতে পারে। এখনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্ক হওয়া উচিত।’
যাদুকাটা নদীর বালু-পাথর সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাকিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুর্বল নির্মাণকাজ করেছে। আবার রাতের আঁধারে সেতুর পাশে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণেও সেতুটি আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।’
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সেতুর মাঝ নদীতে থাকা একটি পিলারের ওপরের পাঁচটি গার্ডার নদীতে পড়ে গেছে। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।





