হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় প্রশাসনের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের কারণে ফসলহানির আশঙ্কার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলায় পৃথক গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ১১টায় হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে পলাশ বাজারে এবং দুপুর তিনটায় তাহিরপুর উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে তাহিরপুর বাজারে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত দুটি গণসমাবেশে এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সাধারণ মানুষ অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ বাজারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের উপজেলা আহ্বায়ক নুরুল আলম সাগর এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব এমদাদুল হক মিলন। তাহিরপুর গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক তৌফিক আহমেদ এবং সঞ্চালনা করেন জেলা সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন। সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা কমিটির সভাপতি মো. রাজু আহমেদ, সদস্য সচিব রিপচান হাবিবসহ স্থানীয় কৃষকেরা।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বক্তারা বলেন, বরাদ্দের বড় অংশ লোপাট করে দায়সারা কাজ করা হয়েছে। দূরমুজ না করে বাঁশের আড় ও মাটি ফেলে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে অনিয়মের মাধ্যমে শুরু থেকেই লুটপাটের নীলনকশা করা হয়েছিল। ফলে ফসলরক্ষা বাঁধ এখন হুমকির মুখে পড়েছে।
সমাবেশ থেকে দাবি জানানো হয়, দ্রুত বাঁধ মেরামত ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো শক্তিশালী করতে হবে। অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় বাঁধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত পাউবো কর্মকর্তা ও পিআইসি সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে এবং বিতর্কিত কর্মকর্তাদের সুনামগঞ্জ থেকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।





