কুড়িগ্রামে চোরাই মোটরসাইকেল চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ১০টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর মধ্যে কয়েকটির মালিক শনাক্ত হয়েছে, বাকি মোটরসাইকেলের মালিকানা যাচাই চলছে।
পুলিশ জানায়, কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত কুড়িগ্রাম সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। কোট চত্বর, নিউরন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সদর হাসপাতাল এলাকা ও জিয়া বাজারের সামনে থেকে অন্তত চারটি মোটরসাইকেল চুরি হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সদর হাসপাতাল এলাকার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে একটি নীল রঙের টিভিএস অ্যাপাচি ১৬০ সিসি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নাজমুল ইসলাম কুড়িগ্রাম থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বির দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মাসুদ রানার তত্ত্বাবধানে কুড়িগ্রাম থানার একটি দল অভিযান চালায়।
অভিযানে গাজীপুরের কাশিমপুর থানা এলাকা থেকে শাহজামাল ওরফে বাবু ও নুর ইসলামকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালমনিরহাট সদর থানার বড়বাড়ী এলাকা থেকে মিঠুল পাশা, কুলাঘাট এলাকা থেকে আনিছুর রহমান, উলিপুর থেকে খাইরুল ইসলাম বাবু, নাগেশ্বরী থেকে রফিকুল মাস্টার ও রেজাউল হাসান ওরফে বারেক এবং ফুলবাড়ী এলাকা থেকে খায়রুল আলম ও আজিজুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন মহানগর, জেলা ও উপজেলা শহর থেকে মোটরসাইকেল চুরি করতেন। পরে সেগুলো বড়বাড়ী ও নাগেশ্বরী এলাকার কয়েকজনের কাছে কম দামে বিক্রি করা হতো। এরপর এসব মোটরসাইকেলে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছে বেশি দামে বিক্রি করা হতো।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শাহজামাল ওরফে বাবু, রফিকুল মাস্টার ও খাইরুল ইসলাম বাবু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম থানায় দুটি, লালমনিরহাট সদর থানায় একটি এবং রাজারহাট থানায় একটি—মোট চারটি মামলা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া ১০টি মোটরসাইকেলের মধ্যে দুটি মোটরসাইকেলের মালিকানা নিশ্চিত হওয়ায় সেগুলো সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি মোটরসাইকেল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে রয়েছে, যা আদালতের নির্দেশ পেলে প্রকৃত মালিককে ফেরত দেওয়া হবে।
অবশিষ্ট সাতটি মোটরসাইকেল বর্তমানে কুড়িগ্রাম থানার হেফাজতে রয়েছে। সেগুলোর মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে আইনগত প্রক্রিয়ায় প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর মধ্যে কয়েকটির ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর টেম্পারিং করা হয়েছে এবং কিছু মোটরসাইকেলের কাগজপত্র ভুয়া বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া কয়েকটি মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনবিহীন অবস্থায় পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





