ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান উত্তেজনায় যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখে থাকলেও নতুন করে তা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ ঘোষণার পরও সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান চুক্তির প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত সামরিক হামলা স্থগিত রাখা হবে। তবে হরমুজ প্রণালি ও ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ–অবরোধ বহাল থাকবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর এ ঘোষণাকে নাকচ করেছে তেহরান। দেশটির দাবি, আলোচনায় ফিরতে হলে আগে যুক্তরাষ্ট্রকে নৌ–অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। ফলে পাকিস্তানে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও ট্রাম্প শুক্রবারের মধ্যে আলোচনা শুরুর আশা প্রকাশ করেছেন।
গত ৮ এপ্রিল প্রথম যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। দুই সপ্তাহের ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে এবার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
এদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের আট ব্যক্তি, চারটি প্রতিষ্ঠান ও দুটি বিমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। দেশটি বলেছে, ইরানের অর্থায়ন ও অস্ত্র সহায়তার উৎস খুঁজে বের করা হবে।
এর আগে গত ১২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রথম দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ আলোচনা শেষে তা ফলপ্রসূ হয়নি। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জোরদার করে। দ্বিতীয় দফা বৈঠকের আহ্বান জানানো হলেও ইরান এতে সাড়া দেয়নি।
অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি জাহাজে হামলা ও জব্দের ঘটনা ঘটেছে বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে। এসব হামলার জন্য ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)কে দায়ী করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রয়েছে। তবে এর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হতে হবে।
সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।




