হামের রোগীদের চিকিৎসায় নতুন কিছু নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে হাম ও হামের উপসর্গ থাকা রোগীদের চিকিৎসার জন্য সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। একই সঙ্গে হামে আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের প্রতিদিন সকাল-বিকেল দুই বেলা রাউন্ড দিতে হবে।
আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ নির্দেশনা দেয়। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালের জন্যও একগুচ্ছ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হাম ও হামের উপসর্গ থাকা রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন নির্ধারণ করতে হবে।
এ ছাড়া হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সকাল-বিকেল দুই বেলা রাউন্ড দেবেন।
প্রত্যেক ভর্তি রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ একজন অভিভাবক বা দর্শনার্থী হাসপাতালে অবস্থান করতে পারবেন বলেও জানানো হয়েছে।
ভর্তি রোগীদের তথ্য প্রতিদিন এমআইএস সার্ভারে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জরুরি প্রয়োজনে ০১৭৫৯১১৪৪৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালের জন্যও কড়া নির্দেশনা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি হাসপাতালে হামের রোগী ভর্তি না করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি হাসপাতালের জন্যও কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, সব বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের ভর্তি করে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন-২০২২-এর ৬-এর (ট) অনুযায়ী সকল বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ন্যূনতম ১০ শতাংশ শয্যা দরিদ্র জনগণের জন্য সম্পূর্ণ বিনা ভাড়ায় সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। এই ১০ শতাংশ শয্যার অর্ধেক শয্যা হাম রোগ ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট থাকবে। যেমন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ শতাংশের অর্ধেক ৫ শতাংশ হিসেবে ১২টি শয্যা নির্দিষ্ট রাখতে হবে। বিষয়টি জরুরি বিভাগ ও অনুসন্ধান ডেস্কে জানাতে হবে।’
এসব হাসপাতালেও ভর্তি রোগীর সঙ্গে একজন অভিভাবক বা দর্শনার্থী থাকার সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে ভর্তিকৃত রোগীদের তথ্য প্রতিদিন এমআইএস সার্ভারে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনে ০১৭৫৯১১৪৪৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হাম ও হাম-সন্দেহজনক রোগীদের চিকিৎসায় স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।




