ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে বাংলাভাষী মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ‘আমরা প্রত্যেক বাংলাভাষীকে ‘বাংলাদেশি’ বলে হেনস্তা ও দেশছাড়া করতে দেব না। এই ধরনের কোনও চেষ্টা হলে আমরা তার জবাব দেব। বুধবার (২৭ আগস্ট) তিনি এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি আসলে এর আড়ালে বিতর্কিত জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) আইন চালু করার চেষ্টা করছে। কেউ যদি জরিপ করতে আসে, কখনোই আপনার তথ্য দেবেন না। তারা আপনার বিস্তারিত তথ্য নেবে এবং নাম কেটে দেবে। আপনার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখুন, সেখানে নাম আছে কি না। আধার কার্ড রাখুন… এটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মমতার দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ৫০০টি দল মোতায়েন করেছে, যারা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম কেটে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা প্রত্যেক বাংলাভাষীকে ‘বাংলাদেশি’ বলে হেনস্তা কিংবা দেশছাড়া করতে দেব না। ললিপপ সরকার (বিজেপিকে ললিপপ সরকার বলে ডাকেন মমতা) কর্মকর্তাদের ভয় দেখাচ্ছে। ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের চাকরি কেড়ে নেওয়া কিংবা কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশন আসে এবং যায়… কিন্তু রাজ্য সরকার থেকে যায়। আমি নির্বাচন কমিশনকে সম্মান করি। কিন্তু আপনারা জানেন, ললিপপ খাওয়া শিশুদের জন্য ঠিক আছে। কিন্তু বড়রা যদি কোনও রাজনৈতিক দলের ললিপপ খায়, সেটা ঠিক নয়। আমি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কারও ভোটাধিকার কেড়ে নিতে দেব না। আপনি মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন। গরিব মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ বলে নির্যাতন করছেন। কিন্তু গরিবরা আমার হৃদয়ে আছেন। আমি জাতপাত মানি না, আমি মানবতা মানি।
এর আগে, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও দেশটির নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, ‘একজন মানুষেরও যদি ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে ১০ লাখ বাঙালি দিল্লি অভিমুখে পদযাত্রা করবে, রাজপথ ঘেরাও করবে। বিজেপি বাংলা ভাষাকে অপমান করছে। সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের এক চিঠিতে বাংলাকে ‘বাংলাদেশের জাতীয় ভাষা’ বলা হয়েছিল। যদি বাংলা না থাকে, তাহলে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গান কোন ভাষায় লেখা হয়েছে? স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার অবদান ভুলিয়ে দিতে চায় তারা। আমরা এই ভাষাগত সন্ত্রাস সহ্য করব না।




