বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাল্টাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে আদালতে জানিয়েছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. রাজিবুল ইসলাম। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে ট্রাইব্যুনাল-১ এ তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
ডা. রাজিবুল ইসলাম বলেন, তাঁকে পাঁচবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়। স্বাচিপ সভাপতি চন্দন তাঁকে সরাসরি বলেন, আবু সাঈদের লাশ নিয়ে ব্যবসা চলছে, এ বিষয়ে শেখ হাসিনা উদ্বিগ্ন, তাই পুলিশের নির্দেশ মতো রিপোর্ট দিতে হবে। তিনি আরও জানান, একটি রিপোর্ট পুলিশ নষ্ট করে ফেলার নির্দেশও দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত চতুর্থবারের প্রতিবেদনে তিনি হত্যার বিস্তারিত উল্লেখ করলেও গুলির বিষয়টি বাদ দিতে বাধ্য হন।
আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমি রাত তিনটা পর্যন্ত রিপোর্ট লিখেছি। আমার স্ত্রী এসে বারবার জানতে চাইছিলো, আমি কী লিখছি। তখন আমি পরিবার নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম।” তিনি জানান, তাঁকে বিদেশ ভ্রমণ ও পরিবারসহ কক্সবাজার ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল, শর্ত ছিল পুলিশের মতো করে রিপোর্ট লিখতে হবে। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গত বছরের ১৬ জুলাই রংপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হন।




