দেশে মাদকাসক্তির সংকটের মধ্যে নতুন ও ভয়ংকর সিনথেটিক মাদক ‘এমডিএমবি’ জব্দ হওয়ার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ভেপ ও ই-সিগারেটের ই-লিকুইডে মিশিয়ে এই মাদক বাজারজাত করা হচ্ছে, যা তরুণ প্রজন্মের জন্য নীরব অথচ মারাত্মক হুমকি। অল্প কয়েক ফোঁটাতেই স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, হ্যালুসিনেশন ও হৃদ্যন্ত্রের জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকায় এর ভয়াবহতা স্পষ্ট।
ভেপ ডিভাইস তরুণদের কাছে ‘স্টাইল স্টেটমেন্ট’ হয়ে ওঠায় মাদক কারবারিরা সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাচ্ছে। ফেসবুকের ক্লোজড গ্রুপ, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে সংকেতভিত্তিক পোস্ট ও ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে চলছে এই ব্যবসা, যা শনাক্ত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। উদ্বেগজনকভাবে, শিক্ষিত তরুণ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও এই চক্রে জড়িয়ে পড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে অভিযানের পাশাপাশি নীতিগতভাবে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। ভেপ ডিভাইস ও ই-লিকুইডের উৎপাদন, আমদানি ও বিক্রির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। একই সঙ্গে সাইবার নজরদারি ও ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা বাড়িয়ে অনলাইন মাদক বাণিজ্য শনাক্তে জোর দিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমদানির রুট বন্ধ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা কর্মসূচি ও সময়োপযোগী আইনি সংস্কার ছাড়া ডিজিটাল যুগের এই নতুন মাদক আগ্রাসন ঠেকানো সম্ভব নয়।



