রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর বিরুদ্ধে সিলিন্ডারজাত এলপিজি গ্যাস বেসরকারি কোম্পানির সিলিন্ডারে ভরে দ্বিগুণ দামে বিক্রির মাধ্যমে বছরে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বিপিসির অসাধু কর্মকর্তা ও ডিলারদের যোগসাজশে এই টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সারাদিন ধরে দুদকের সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল বিপিসির প্রধান কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণস্বরূপ নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়।
একই অভিযোগের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামে এলপি গ্যাস লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড এবং পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডেও অভিযান চালানো হয়।
দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিমের তথ্য অনুযায়ী, বিপিসির কাগজে-কলমে প্রতি বছর ১৪ লাখ বোতল এলপি গ্যাস গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করার কথা। কিন্তু এই গ্যাস নির্ধারিত বোতলে না দিয়ে বেসরকারি কোম্পানির সিলিন্ডারে ভরে দ্বিগুণ দামে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। সরকারের নির্ধারিত ভোক্তা মূল্য অনুযায়ী প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস ৬৯০ টাকায় বিক্রির কথা থাকলেও, তা ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
বিপিসির নিজস্ব এলপি গ্যাস লিমিটেড প্রতিবছর ১৩ থেকে ১৪ হাজার টন এলপিজি পদ্মা, যমুনা, মেঘনা ও এশিয়াটিক কোম্পানির মাধ্যমে বাজারজাত করে। এই চারটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিবন্ধিত ডিলারদের হাতে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হলেও তারা তা সরকারি দামে না বিক্রি করে, বেসরকারি সিলিন্ডারে ভরে অতিরিক্ত মুনাফা করে আসছে। এর ফলে প্রতিটি সিলিন্ডারে গ্রাহকদের প্রায় ৭০০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে।
অভিযান চলাকালে বাজারে বিপিসির নিজস্ব বোতলের উপস্থিতি খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছে তদন্ত দল।
বিপিসির চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান বলেন, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। তাঁর ভাষায়, দেশের এলপি গ্যাস বাজারে বিপিসির সরবরাহ মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ হলেও এর গুরুত্ব কম নয়। সরকারি গ্যাস বেশি দামে বিক্রির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযানে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




