ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছে, তাদেরকে স্মরণ করে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারাহ কুক বলেছেন, গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার পথরেখা তৈরির কাজ করার এই সময়ে দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশকে সমর্থন করে যুক্তরাজ্য। গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া উদ্যোগকে সেই পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। বুধবার (১৮ জুন) ঢাকার একটি হোটেলে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ঢাকায় এ পর্যন্ত তৃতীয়বারের মতো ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের জন্মদিন উদযাপন হচ্ছে। গত বছর রাজার জন্মদিন উদযাপনের পর বিশাল পরিবর্তন দেখেছে বাংলাদেশ। গত গ্রীষ্মের অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হয়ে থাকবে। যে সহিংসতা আমরা দেখেছি, তাতে বিশ্ববাসী হতবাক হয়েছে। যথাযথ মূল্যায়ন, গণতন্ত্র ও উন্নত ভবিষ্যতের জন্য যারা জীবন দিয়েছে, তাদের অনেক ছিল যুবক শ্রেণির।
যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করার কথা তুলে ধরে সারাহ কুক বলেন, যদিও গত বছরটি বেশ টালমাটাল ছিল, এর মধ্যেও বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হয়েছে। গত গ্রীষ্মের ঘটনাবলীর পর অর্থনৈতিক সংস্কার এবং সম্পদ পুনরুদ্ধারে বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেওয়ার মধ্য দিয়ে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং তার দলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছি।
কিং চার্লসের জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। মঞ্চে ছিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদও। বাংলাদেশের পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে পাশে দাঁড়ানোয় যুক্তরাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ দেন রিজওয়ানা হাসান। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুশাসন ও জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাজ্যের সহায়তা চান তিনি।




