বার্মিংহাম , ৯ সেপ্টেম্বর : কাতারের রাজধানী দোহায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের লক্ষ্য করে এ হামলা বলে জানিয়েছে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ। এ সময় দোহারের বিভিন্ন স্থান থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। খবর আল জাজিরার।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের শীর্ষ নেতারা। ইসরায়েলি চ্যানেল টুয়েলভ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসা হামাস প্রতিনিধিদল দোহায় অবস্থানকালে হামলাটি চালানো হয়। যদিও হামাস পরে লেবাননভিত্তিক আল মায়াদিনকে জানায়, তাদের আলোচনাকারী প্রতিনিধি দল অক্ষত রয়েছে।
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হানি আল-দালির মতে, হামলায় কয়েকজন হামাস কর্মী শহীদ হয়েছেন, তবে শীর্ষ নেতৃত্ব বেঁচে গেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এই হত্যাচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
রয়টার্সের সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, দোহার কাতারা জেলায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে। আল-দালি মনে করেন, এই হামলা প্রমাণ করে আলোচনার আড়ালে ইসরায়েল আসলে গাজার যুদ্ধকে আরও তীব্র করার কৌশল নিয়েছে। পর্যবেক্ষকরাও বলছেন, শান্তি আলোচনার সময় এমন হামলা চালিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আলোচনাকে ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যেমনটি এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার সময় দেখা গিয়েছিল।
ছিলো ট্রাম্পের সম্মতি
মিডল ইস্ট আই-এর খবরে বলা হয়, আঞ্চলিক ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কাতারে এই হামলার আগে ওয়াশিংটনকে অবহিত করা হয়েছিল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ অভিযানে সম্মতি দিয়েছিলেন। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল দোহার কাতারা এলাকা, যেখানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সরকারি বাসভবনও অবস্থিত। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দফতর দাবি করেছে, এটি ছিল “সম্পূর্ণ স্বাধীন ইসরায়েলি অভিযান” এবং এর পূর্ণ দায় তারা নিজেরাই নিচ্ছে।
হামলার সময় দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশন সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগে থাকা কর্মকর্তাদের অনেকেই নীরবতা বজায় রাখেন, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে অভিযানের স্বার্থে সচেতনভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল। যদিও কী ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা এখনও পরিষ্কার নয়। কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকার কথা থাকলেও হামলাটি ঠেকানো সম্ভব হয়নি। উল্লেখযোগ্য যে, গত জুনে ইরান যখন যুক্তরাষ্ট্রের আল-উদেইদ ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তখন এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
দোহায় এ হামলার তাৎপর্যও কম নয়। কাতারা জেলা দীর্ঘদিন ধরে কূটনীতিক ও প্রবাসীদের নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। অথচ ঠিক সেখানেই হামলা চালিয়ে ইসরায়েল কাতারে অবস্থানরত হামাস নেতাদের সরাসরি হুমকি দিল। জুন মাসে দেশটির সংবাদমাধ্যম মারিভ জানিয়েছিল, বিদেশে থাকা হামাস নেতাদের হত্যার জন্য একটি ‘হিট-লিস্ট’ প্রস্তুত করেছে ইসরায়েল। দোহায় এই অভিযান সেই হুমকিরই প্রতিফলন।
কাতার যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অ-ন্যাটো মিত্র। যদিও দোহা দুবাইয়ের মতো প্রবাসী-বান্ধব নয়, তবুও এটি ধীরে ধীরে পশ্চিমা কূটনীতিক, প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ক্রমবর্ধমান কেন্দ্র হয়ে উঠছে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে দোহায় হামাস নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি হামলা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তাই যোগ করেনি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে।





