ফ্লোটিলার শেষ নৌকাটি সাগরে ভাসছে : ইসরায়েল
গাজামুখী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র সব নৌকাই আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, কোনো নৌকাই “সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ বা বৈধ নৌ-অবরোধ ভাঙতে সক্ষম হয়নি।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আটক যাত্রীদের সবাই নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। তাঁদের ইসরায়েলে আনা হচ্ছে এবং সেখান থেকে ইউরোপে ফেরত পাঠানো হবে।
তবে এখনো একটি নৌকার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, সেটি যদি গাজা উপকূলে পৌঁছাতে চায় এবং অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করে, তবে সেটিকেও আটকানো হবে।
গাজায় নৃশংস অবরোধ ভাঙার বিরল চেষ্টা
ইসরায়েলের আরোপিত প্রাণঘাতী নৌ-অবরোধ ভাঙতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় উদ্যোগ নিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক এক্টিভিস্টরা। আগে যেসব প্রচেষ্টা হয়েছে, তার তুলনায় এবারের ফ্লোটিলাটি ছিল অনেক বড়। আয়োজকদের ধারণা ছিল, এত সংখ্যক নৌকা একসঙ্গে গেলে ইসরায়েলের পক্ষে সবগুলো আটকানো কঠিন হবে।
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামে এ বহরটি প্রথমে ৪০টির বেশি নৌকা ও পাঁচ শতাধিক কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। প্রতীকী হিসেবে কিছু মানবিক সহায়তাও বহন করছিল তারা। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, বহরের একটি নৌকার সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সর্বশেষ অবস্থান অনুযায়ী সেটি গাজার উপকূল থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে ছিল।
এদিকে ইসরায়েলি সেনারা ফ্লোটিলার কয়েকটি নৌকায় অভিযান চালিয়ে কর্মীদের আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থানবার্গ, বার্সেলোনার সাবেক মেয়র আডা কলাউ, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসানসহ আরও অনেকে।
গাজার জলসীমায় মিকেনোর প্রবেশ, আরও ২৩ জাহাজ পথে
গাজার উপকূলে পৌঁছেছে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী হিউম্যানিটেরি সাহায্য বহনকারী ফ্লোটিলার একটি জাহাজ। ‘মিকেনো’ নামের এই জাহাজ বর্তমানে গাজার জলসীমায় অবস্থান করছে। তবে এটিকে কি ইতিমধ্যেই ইস্রায়েলি সেনারা আটক করেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’-র লাইভ ট্র্যাকার অনুযায়ী, আরও ২৩টি জাহাজ এখনও গাজার দিকে এগিয়ে চলছে। ইস্রায়েলি কমান্ডোরা নিয়মিতভাবে জাহাজগুলোকে আটক করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বর্তমানে ২৪টি জাহাজ অভিযানরত অবস্থায় রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি গাজার জলসীমার কাছে অবস্থান করছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা জনগণকে জানানো হবে।
ফ্লোটিলার ১৫ নৌযান আটক, আরও আটটি আটকের আশঙ্কা
গাজার উদ্দেশে মানবিক সহায়তা নিয়ে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নতুন আপডেট দিয়েছে আয়োজকরা। এতে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫টি নৌযানকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আরও আটটি নৌযানকে “সম্ভাব্য বা বর্তমানে আটক করা হচ্ছে” বলেও জানানো হয়েছে।
বাকি জাহাজগুলো এখনো উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফ্লোটিলার ট্র্যাকারেই তাদের গতিপ্রকৃতি দেখা যাচ্ছে।
৩৭ দেশের দুই শতাধিক মানুষকে আটক করেছে ইসরায়েল: ফ্লোটিলা কমিটির দাবি

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা কমিটির মুখপাত্র সাইফ আবু কেশেক জানিয়েছেন, ভূমধ্যসাগরে ১৩টি নৌযান আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, আটক হওয়া নৌযানগুলোতে ৩৭ দেশের অন্তত ২০১ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে স্পেনের ৩০ জন, ইতালির ২২ জন, তুরস্কের ২১ জন এবং মালয়েশিয়ার ১২ জন রয়েছেন।
আবু কেশেক জানান, আটক সত্ত্বেও ফ্লোটিলার মিশন অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমাদের প্রায় ৩০টি জাহাজ এখনো দখলদার বাহিনীর সামরিক নৌযান এড়িয়ে গাজার উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, উদ্দীপ্ত, এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে অবরোধ ভাঙার জন্য, যাতে ভোরের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।”
গাজার মানবিক বিপর্যয়ে আলো ফেলেছে ফ্লোটিলা: আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও এক্টিভিস্টদের আটক অভিযানের পর গাজা ফ্লোটিলায় থাকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, “আজকের খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি একটি শান্তিপূর্ণ মিশন, যার উদ্দেশ্য ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা।”
তিনি আরও বলেন, ফ্লোটিলার সদস্যদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের কঠোর অনুসারে আচরণ করতে হবে।
আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ফ্লোটিলায় থাকা আইরিশ নাগরিকদের সহায়তায় মনোযোগী এবং “আইরিশ নাগরিকদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার
১৩টি জাহাজ আটকাল ইসরায়েল, গাজামুখী পথে এখনো ৩০টি
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তাদের ১৩টি জাহাজ আটক করেছে ইসরায়েল। তবে এখনো ৩০টি জাহাজ গাজার উপকূলের দিকে রওনা আছে, যেখানে তারা যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য খাদ্য ও ত্রাণ পৌঁছে দিতে চায়।
ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “ইসরায়েলের এই বেআইনি আটক আমাদের থামাতে পারবে না।”
তারা আরও জানায়, “আমাদের মিশন অব্যাহত রয়েছে। আমরা অবরোধ ভেঙে একটি মানবিক করিডর খুলতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”
আইরিশ সিনেটরকে বেআইনিভাবে আটক করেছে ইসরায়েল: সিন ফেইন
আইরিশ রাজনৈতিক দল সিন ফেইন জানিয়েছে, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা অবস্থায় সিনেটর ক্রিস অ্যান্ড্রুজকে ইসরায়েলি বাহিনী বেআইনিভাবে আটক করেছে।
দলটি আইরিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, “এখনই ব্যবস্থা নিন এবং সিনেটর ক্রিস অ্যান্ড্রুজসহ সকল আইরিশ নাগরিকদের নিরাপদ মুক্তির দাবি করুন।”
সিন ফেইনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ফ্লোটিলা একটি শান্তিপূর্ণ মানবিক মিশন, যা গাজার জন্য খাদ্য ও সহায়তা বহন করছে। এই সহিংস আটক আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার সমন্বয়কারীরা জানিয়েছেন, ফ্লোটিলার জাহাজগুলোতে মোট ২২ জন আইরিশ নাগরিক রয়েছে।
আইরিশ প্রেসিডেন্ট মাইকেল ডি হিগিনস জানিয়েছেন, জাহাজ আটকানোর ঘটনায় ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। তিনি আরটিই-কে বলেন, “সাম্প্রতিক সপ্তাহে জাতিসংঘের অনেক সদস্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়াকে অঞ্চলে শান্তির জন্য অপরিহার্য বলে মনে করেছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ৪০-এর বেশি জাহাজ ও ৫০০-এর বেশি মানুষ নিয়ে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর প্রচেষ্টা যখন আটকানো হচ্ছে, সেই অঙ্গীকার এখন কোথায় দাঁড়িয়েছে?”
গাজার ফ্লোটিলা আটকানোর প্রতিবাদে রোমের সড়কে হাজার হাজার মানুষ
গাজার ফ্লোটিলা আটকানোর পর ইতালির রাজধানী রোমে হাজার হাজার মানুষ সড়কে নেমেছে। বড় জনস্রোত ইতালির সরকারের কেন্দ্রীয় ভবন-এর বাইরে সমবেত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা “ফ্রিই প্যালেস্টাইন” স্লোগান দিতে থাকে এবং প্রধানমন্ত্রী জিওর্জিয়া মেলোনির পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে।
দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে। টারিনে ছাত্ররা একটি বিশ্ববিদ্যালয় ভবন দখল করেছে, বোলোনিয়ায় হাজার হাজার মানুষ শহরের কেন্দ্র দিয়ে মিছিল করেছে। পিসা ও নাপলোসে এক্টিভিস্টরা রেলপথ দখল করে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।
বার্লিনে সুমুদ ফ্লোটিলার সমর্থনে বিক্ষোভ
ইসরায়েলের ফ্লোটিলা আটক ও এক্টিভিস্টদের গ্রেফতারের পর বার্লিনে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার সমর্থনে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বার্লিন সেন্ট্রাল স্টেশনে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের বড় বাহিনীর সামনে “ফ্রিই প্যালেস্টাইন” স্লোগান দেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে।
গত কয়েক বছরে জার্মানিতে ফিলিস্তিনপন্থী বক্তৃতা ও কর্মকাণ্ডে কঠোরতা প্রয়োগ করা হয়েছে। হ্যানো হাউনস্টাইন গার্ডিয়ান পত্রিকায় লিখেছেন, “গত দুই বছরে প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষ প্যালেস্টাইন বা ইসরায়েলের বিষয়ে বক্তব্যের কারণে অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী এবং পুরস্কার বাতিল করেছে।”
ফ্লোটিলার ছয়টি জাহাজ ইসরায়েলিদের হাতে আটক
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কমপক্ষে ছয়টি জাহাজ ইসরায়েলি নৌবাহিনী আটক করেছে।
সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, আটক জাহাজগুলোর নাম হল: দেইর ইয়াসিন/মালি, হুগা, স্পেকট্র, আদারা, আলমা ও সিরিয়াস।
ইসরায়েলের ঘোষণা : ইয়োম কিপুরের পরে এক্টিভিস্টদের বের করে দেওয়া হবে
ইসরায়েলের জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জানিয়েছেন, গাজার সহায়তা বহনকারী ফ্লোটিলার জাহাজে থাকা এক্টিভিস্টদের ইহুদী ধর্মীয় উৎসব ইয়োম কিপুরের (বৃহস্পতিবার) পরে ইসরায়েল থেকে বের করে দেওয়া হবে।
ড্যানন বলেন, “কেউ সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি এসে আমাদের সার্বভৌমত্ব ভঙ্গ করতে পারবে না। বেআইনিভাবে প্রবেশের চেষ্টা করা যেকোনো মানুষকে ইয়োম কিপুরের পর সরাসরি বের করে দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েল বারবার শান্তিপূর্ণভাবে গাজার জন্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পথ দেখিয়েছে। কিন্তু ফ্লোটিলা শুধুমাত্র উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চায়, সহায়তা পৌঁছানোর জন্য নয়।”
ইসরায়েল এখনও গাজার অধিকাংশ সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, অবরোধের কারণে গাজায় মানুষ অনাহারে ভুগছে এবং মারাত্মক ক্ষুধার পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ৩৫০-এর বেশি মানুষ অনাহারে মারা গেছে।
ফ্লোটিলা থামিয়ে গ্রেটা থুনবার্গসহ এক্টিভিস্টদের আটক করল ইসরায়েল
গাজামুখী মানবিক সহায়তা ফ্লোটিলা আটকে দেওয়ার পর সুইডিশ জলবায়ু এক্টিভিস্ট গ্রেটা থুনবার্গকে আটক করেছে ইসরায়েলি সেনারা।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সে (সাবেক টুইটার) জানায়, “হামাস-সুমুদ ফ্লোটিলার কয়েকটি জাহাজ নিরাপদে থামানো হয়েছে এবং যাত্রীদের ইসরায়েলের একটি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গ্রেটা ও তাঁর সঙ্গীরা নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।”
সংস্থাটি একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে, যেখানে থুনবার্গকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে ফ্লোটিলার সঙ্গে হামাসের যোগসাজশ রয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ এখনো হাজির করতে পারেনি ইসরায়েল।
অন্যদিকে, এক্টিভিস্টরা এ আটক অভিযানকে অবৈধ এবং “জলদস্যুতা” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
‘সুমুদ ফ্লোটিলা আটকানোকে জলদস্যুতা’
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে জাহাজগুলো আটক ও যাত্রীদের অপহরণের অভিযোগ তুলেছে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন।
এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, “বিবেকবান মানুষদের অপহরণ করা হয়েছে। ফ্লোটিলা কোনো আইন ভঙ্গ করেনি। বেআইনি হলো ইসরায়েলের গণহত্যা, গাজার ওপর অবৈধ অবরোধ এবং মানুষকে অনাহারে রাখাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার।”
সংগঠনটি এ ঘটনাকে “জলদস্যুতা” ও “অপহরণ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে নিরস্ত্র মানুষদের অপহরণ করা হয়েছে। এটি জলদস্যুতা, এটি অপহরণ। ফ্লোটিলা কোনো আইন ভঙ্গ করেনি। বেআইনি হলো গণহত্যা, গাজার প্রাণঘাতী অবরোধ, অনাহারকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার এবং বেসামরিক জাহাজ দখল করে যাত্রীদের অপহরণ।”
ফ্লোটিলা কোয়ালিশন সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানায়, “আপনাদের সরকারকে চাপ দিন—ইসরায়েলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি তুলুন।”
গাজামুখী ফ্লোটিলা আটকানোকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বললেন করবিন
যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সাবেক নেতা ও স্বাধীন সংসদ সদস্য জেরেমি করবিন গাজামুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটকানোয় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি একে “আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন” বলে উল্লেখ করেছেন।
এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া বিবৃতিতে করবিন লেখেন, “ইসরায়েল বেআইনিভাবে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটকেছে। এই ন্যাক্কারজনক হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি মানবিক মর্যাদার প্রতি অবমাননা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি আরেকটি অবমাননা, যাদের ইসরায়েল অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্য সরকার ফ্লোটিলা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলে যে সতর্কবার্তা পেয়েছিল, তা উপেক্ষা করেছে। করবিনের আহ্বান, “সরকারকে আবারও বলছি—আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় এগিয়ে আসুন, ইসরায়েলের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করুন এবং তাদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করুন।”
করবিন আরও উল্লেখ করেন, “ইতিহাস ফ্লোটিলার পক্ষেই থাকবে। তাঁদের সাহসিকতা আরও বহু মানুষকে ফিলিস্তিনের পক্ষে বৈশ্বিক আন্দোলনে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করবে।”
ইসরায়েলের হাতে অপহরণের অভিযোগ তুললেন মার্কিন এক্টিভিস্ট
গাজামুখী সুমুদ ফ্লোটিলায় থাকা মার্কিন নাগরিক ও এক্টিভিস্ট লায়লা হেগাজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি আগে থেকে ধারণ করা ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, তাঁর এ ভিডিও প্রচার মানে তিনি ইতিমধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে অপহৃত হয়ে ইসরায়েলে নেওয়া হয়েছেন তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে।
ভিডিও বার্তায় হেগাজি বলেন, “দয়া করে বুঝুন, এটি আন্তর্জাতিক আইনে বেআইনি কাজ এবং সেভাবেই এর বিচার হওয়া উচিত।”
তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যায় সহযোগিতা বন্ধ করে এবং মানবিক এই মিশনে অংশ নেওয়া প্রত্যেকের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করে।
ইসরায়েলের বাধার মুখে সুমুদ ফ্লোটিলা, পাল্টা বার্তা আয়োজকদের
গাজামুখী সুমুদ ফ্লোটিলা আটকে দিতে তৎপর হয়েছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। এ নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলি নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা ফ্লোটিলাকে কোর্স পরিবর্তন করে আশদোদ বন্দরে যেতে বলছেন। তিনি জানান, সেখানে তল্লাশি শেষে সহায়তার সামগ্রী গাজায় পাঠানো হবে।
অন্যদিকে, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নিজেদের ভিডিও প্রকাশ করেছে। এতে ফ্লোটিলার স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য থিয়াগো আভিলা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা বলছেন আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করছি। কিন্তু এটাই সেই জায়গা যেখানে আপনারা যুদ্ধাপরাধ করছেন। এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।”
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—গাজায় মানবিক ত্রাণ মিশন বাধাগ্রস্ত করা আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী। অথচ ইসরায়েলই সেই আইন ভঙ্গ করছে। আভিলা মন্তব্য করেন, “গাজার মানুষ তাঁদের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের অধিকার রাখে। কোনো দখলদার শক্তি মানবিক সহায়তার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। তাই আপনাদের আমরা বৈধ কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দিই না।”
ফ্লোটিলা ইস্যুতে ইতালির সবচেয়ে বড় শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ ধর্মঘটের ডাক
ইতালির সবচেয়ে বড় শ্রমিক সংগঠন শুক্রবার সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ ইস্যুতে সরকারের আচরণের প্রতিবাদে এ ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছে।
এর আগে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি জানান, ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন যে, ফ্লোটিলার ওপর কোনো ধরনের সহিংসতা চালাবে না ইসরায়েলি বাহিনী।




