গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছাড়লেও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই থেকে সরানো হচ্ছে না শেখ হাসিনার নাম। তবে তার নামের আগে যোগ হচ্ছে ‘স্বৈরাচার’ ও ‘গণহত্যাকারী’ অভিধা। পাশাপাশি বইয়ে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগ আমলের ‘দিনের ভোট রাতে’ ও ‘ডামি নির্বাচন’-এর মতো বিতর্কিত প্রসঙ্গও।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে এসব পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নতুন শিক্ষাক্রম স্থগিত রেখে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে বইগুলো পরিমার্জন করা হচ্ছে।
এনসিটিবির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক রবিউল কবির চৌধুরী বলেন, এই ধরনের বিষয় যেটাই আসুক, সেটি কমিটির মাধ্যমেই করা হয়। চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার কাজ চলছে।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও এনসিটিবির পরিমার্জন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, ইতিহাস নিরাসক্ত ও শোভন হওয়া দরকার। আগে বাড়াবাড়ি হয়ে থাকলে এখন তা সাধারণ মাত্রায় আনার প্রয়োজনে কাঁটছাঁট করা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার শব্দ পাঠ্যবইয়ে আগে থেকেও ব্যবহৃত হয়েছে। যদি বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা প্রযোজ্য হয়, তাতে বড় কোনো ব্যতিক্রম দেখছি না।
তথ্য অনুসারে, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পৌরনীতি ও সুশাসন বইয়ে আওয়ামী লীগ আমলের তিনটি নির্বাচন—২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ভোটের বর্ণনা যুক্ত হচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাজনৈতিক সরকারগুলোর সময় পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসের নিরপেক্ষ বর্ণনা পাওয়া কঠিন হলেও এবার অরাজনৈতিক সরকারের অধীনে কিছুটা নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হচ্ছে। তবে কতটা সঠিক ইতিহাস উঠে আসবে, তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।




