নোবেল শান্তি পুরস্কারের নাম ঘোষণার দিন ঘনিয়ে আসতেই আলোচনায় উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জয়ের আকাঙ্ক্ষা তিনি বহুবার প্রকাশ করেছেন। এবারের দৌড়ে নিজের গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে সামনে রেখে তিনি আবারও সক্রিয় হয়েছেন।
নিজেকে ‘চুক্তিকারী’ ও ‘বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে তুলে ধরে ট্রাম্প বলছেন, ২০২০ সালের ‘আব্রাহাম চুক্তি’ এবং সাম্প্রতিক ‘গাজা শান্তি রোডম্যাপ’ তাঁকে নোবেলের যোগ্য করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন প্রকাশ্য প্রচারণা তাঁর সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ করছে।
নোবেল কমিটির প্রক্রিয়া গোপন। প্রতি বছর নরওয়ের পাঁচ সদস্যের কমিটি শত শত মনোনীত ব্যক্তির মধ্য থেকে বিজয়ী নির্বাচন করে। এ বছর ৩৩৮ জন মনোনীত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০১৮ সাল থেকে ট্রাম্প নিয়মিত মনোনয়ন পাচ্ছেন। এবারও তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছেন রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ক্লাউডিয়া টেনি।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় বাধা আছে। ইসরায়েলি আগ্রাসন ও হামাসের নিরস্ত্রীকরণে অগ্রগতি না থাকায় তাঁর শান্তি উদ্যোগ এখনো অনিশ্চিত। জলবায়ু পরিবর্তন অস্বীকার, সংঘাতমূলক বক্তব্য এবং প্রকাশ্য লবিংও তাঁর বিরুদ্ধে কাজ করছে।
অসলো পিস ইনস্টিটিউটের পরিচালক নিনা গ্রেগারের ভাষায়, “নোবেল কমিটি রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। ট্রাম্পের পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা তাই খুবই কম।”
চলতি বছর সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন প্রয়াত রুশ নেতা নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া ও সুদানের মানবিক সংস্থাগুলো। বাজিকরদের হিসেবে ট্রাম্প তৃতীয় স্থানে থাকলেও ইতিহাস বলছে, এসব পূর্বাভাসের সঙ্গে বাস্তব ফলের মিল সচরাচর মেলে না।
আগামী শুক্রবার নরওয়ের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় ঘোষণা করা হবে শান্তির নোবেল বিজয়ীর নাম।




