একসময় ধারণা ছিল, যত বেশি দেশে ভ্রমণ করা যাবে, পাসপোর্ট তত ‘ভারী’ হবে। এখন সেই ধারণা উল্টো। সবুজ মলাটের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখলেই অনেক দেশ সতর্ক হয়ে যায়। উন্নত তো বটেই, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশও এখন ভিসা দিতে অনীহা দেখাচ্ছে।
থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো জনপ্রিয় গন্তব্যে ভিসা পেতে সময় লাগছে আগের চেয়ে অনেক বেশি, বাড়ছে প্রত্যাখ্যানের হারও। এমনকি অন-অ্যারাইভাল সুবিধা দেওয়া দেশগুলোও বাংলাদেশিদের বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠাচ্ছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনীহার পেছনে রয়েছে ভিসার অপব্যবহার ও অবৈধ অভিবাসন। অনেকেই পর্যটন ভিসায় গিয়ে আর ফেরেন না, কেউ কেউ ভুয়া কাগজপত্র বা হোটেল বুকিং দেখান। এতে আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের চোখে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা সন্দেহভাজন হয়ে পড়ছেন।
মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও নেপালের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানিয়েছে, ভুয়া বুকিং, পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা এবং ভ্রমণ পরিকল্পনায় অসঙ্গতির কারণেই বাংলাদেশিদের ‘অফলোড’ করা হচ্ছে। এমন প্রবণতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পর্যটন খাতও।
টোয়াব সভাপতি রাফিউজ্জামান রাফি বলেন, ‘ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দুবাইসহ অনেক দেশ ভিসা বন্ধ বা সীমিত করেছে। এতে পর্যটন খাত বড় ক্ষতির মুখে।’
২০০৬ সালে শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৬৮তম, এখন তা নেমে এসেছে ৯৪-এ। সাবেক কূটনীতিক মুন্সী ফয়েজ আহমদের মতে, ‘আমাদের নিজেদের আচরণ না বদলালে বিদেশে আস্থা ফিরবে না। বাংলাদেশি পাসপোর্টে আবার সম্মান পেতে হলে ভিসার অপব্যবহার বন্ধ করতেই হবে।’




