গাজায় যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে সোমবার সকালে সাত ইসরায়েলি জিম্মিকে আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর করেছে হামাস। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় প্রথম ধাপের মুক্তির সূচনা হলো। টানা দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এই সাতজন নিজ দেশে ফিরছেন।
জিম্মিদের সংগঠন ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন—এইটান মর, গালি বারমান, জিভ বারমান, মাতান আংগ্রেস্ট, ওমরি মিরান, গাই গিলবোয়া-ডালাল এবং আলন আহেল।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মোট ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস, এর বিনিময়ে ইসরায়েল মুক্তি দেবে ১ হাজার ৯০০–এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দীকে। প্রথম সাতজন মুক্তির পর এই ধাপে আরও ১৩ ইসরায়েলি নাগরিককে ফেরানোর প্রস্তুতি চলছে। তাঁদের মধ্যে আছেন—এভিয়াতার ডেভিড, আলন ওহেল, আভিনাতান অর, এরিয়েল কুনিও, ডেভিড কুনিও, নিমরোদ কোহেন, বার কুপারস্টাইন, ইয়োসেফ চাইম ওহানা, সেগেভ কালফন, এলকানা বোহবট, ম্যাক্সিম হারকিন, এইটান হর্ন এবং রম ব্রাসলাভস্কি।
জিম্মিদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে তাঁদের মুক্তির খবর পেয়ে দেশজুড়ে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। তেলআবিবসহ বিভিন্ন শহরে বড় পর্দায় সম্প্রচারিত মুক্তির দৃশ্য দেখতে হাজারো মানুষ সমবেত হয়। কেউ কেউ ইসরায়েলের পতাকা হাতে ও এখনো আটক থাকা জিম্মিদের ছবিসংবলিত পোস্টার নিয়ে দাঁড়ান।

ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের রেইম সামরিক ঘাঁটির বাইরে সূর্য ওঠার আগেই কয়েক ডজন মানুষ জড়ো হন, হাতে পতাকা ও প্রার্থনায় নীরব। আকাশে তখন প্রস্তুত হেলিকপ্টার—মুক্তিপ্রাপ্তদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর স্ত্রী সারা প্রত্যেক জিম্মির জন্য হাতে লেখা বার্তা ও উপহার প্রস্তুত করেছেন। বার্তায় লেখা, “ইসরায়েলি জনগণের পক্ষ থেকে স্বাগতম। আমরা তোমাদের জন্য অপেক্ষা করেছি—আলিঙ্গন করে রাখছি।”
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রতিটি ফেরত আসা জিম্মিকে দেওয়া হবে একটি ব্যক্তিগত স্বাগত প্যাকেজ, যাতে থাকবে পোশাক, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিসপত্র, একটি ল্যাপটপ, ফোন ও ট্যাবলেট।
গাজা সীমান্তে ফেরার পথজুড়ে ইসরায়েলি সেনারা পতাকা স্থাপন করেছে—যাত্রাপথটিকে কেবল নিরাপত্তার পথ নয়, বরং জীবনের, আশার ও হারানোদের পুনরুদ্ধারের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করতে।
সরকার জানিয়েছে, জীবিত জিম্মিদের ফেরানোর পাশাপাশি নিহতদের দেহাবশেষও আজ দুপুরের মধ্যে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।




