কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে দেশে প্রবেশের সময় নারী ও শিশুসহ ১১ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পাঁচজন পুরুষ, দুইজন নারী ও চারজন শিশু।
শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ২২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সোনাহাট বিওপির একটি টহলদল সীমান্ত পিলার ১০১১ থেকে প্রায় ৪০০ গজ ভেতরে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা প্রায় এক বছর আগে দালালদের সহযোগিতায় কুমিল্লা সীমান্ত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যে কাজের সন্ধানে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁরা দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক ও কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিলেন। সম্প্রতি দেশে ফিরে আসার উদ্দেশ্যে আবারও দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দালালদের সহযোগিতায় বিএসএফের সহায়তায় রাতের আঁধারে কাঁটাতার অতিক্রম করে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। তবে সীমান্ত অতিক্রমের কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিজিবির টহলদল তাঁদের আটক করে।
আটকদের সবাই কক্সবাজার সদর উপজেলার কাকতলী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে এক পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। তাঁরা হলেন মৃত আলতাফ হোসেনের ছেলে মো. ইমাম হোসেন (৪৮), আব্দুল মালেকের ছেলে শফিউল্লাহ (১৮), মোহাম্মদ আলমের ছেলে নবী হোসেন (১৫), রবিউলের ছেলে রবিউল আলম (২০), ইসমাইলের ছেলে আজিজ (১৫) এবং মোহাম্মদ আবুর ছেলে মোহাম্মদ (৭)।
এ ছাড়া আমেনা বেগম (২৮), রেজিয়া (২১), রিফা (৯), শাফা (৬) ও নূর শাহিদা (২) নামের আরও পাঁচজন নারী ও শিশু রয়েছেন।
বিজিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তাঁরা দালালদের মাধ্যমে সীমান্ত অতিক্রম করেছেন। প্রতিজনের কাছ থেকে দালালচক্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছিল। ভারত থেকে দেশে ফেরার সময় বিএসএফ সদস্যদেরও ঘুষ দেওয়া হয় বলে তাঁরা জানান।”
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, দালালচক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার ও অবৈধ ব্যবসার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল হেলাল মাহমুদ বলেন, “বিজিবি আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে এসেছে। তাঁদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে দায়ী। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারী সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রায়ই বাংলাদেশি শ্রমিক ও নারী–শিশুরা দালালদের সহযোগিতায় ভারতে যাতায়াত করেন। সীমান্তের দুই পারের দালালচক্র এসব মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালালেও পাচারচক্রের সক্রিয়তা পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি।
বিজিবির পক্ষ থেকে আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাচাই–বাছাই শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।





