চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আজ সোমবার, ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–ওয়েস্ট ইন্ডিজ তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ। একদিকে জয়রথে চড়া বাংলাদেশ, অন্যদিকে হারের বৃত্তে বন্দী ওয়েস্ট ইন্ডিজ—দুই দলের পথ যেন দুই মেরুতে। রবিবার অনুশীলনের দিনজুড়েই স্টেডিয়ামজুড়ে ছিল দুই বিপরীত আবহ। সংবাদ সম্মেলনেও তা ফুটে উঠেছে স্পষ্টভাবে। ক্যারিবীয় অধিনায়ক শাই হোপ বললেন, ‘অতীতকে পেছনে ফেলতে হবে, সেখান থেকেই শিখতে হবে।’
বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাস বললেন ঠিক তার উল্টো সুরে, ‘আমি চাই সবাই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ুক—এটাই ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে দরকার।’
এক সময় টি–টোয়েন্টিতে রাজত্ব করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন যেন ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে। সর্বশেষ সাতটি টি–টোয়েন্টি সিরিজেই হেরেছে তারা। এমনকি সাম্প্রতিক শারজাহ সফরে নেপালের বিপক্ষেও পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে ক্যারিবীয়রা। তার আগে নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে হয়েছিল ধবলধোলাই। শাই হোপ তাই এখন কেবল নতুন শুরুর প্রতিশ্রুতিতে মনোযোগী, ‘যতবার মাঠে নামব, জয়ের বিশ্বাস নিয়েই নামতে হবে। অতীত আমাদের আর থামাতে পারবে না।’
অন্যদিকে বাংলাদেশ এখন ঠিক বিপরীত পথে হাঁটছে। দীর্ঘ সময় টি–টোয়েন্টিতে ছন্দ খুঁজে বেড়ানো দলটি গত জুলাই থেকে ধারাবাহিক সাফল্যে বদলে যাওয়ার বার্তা দিচ্ছে। আজ মাঠে নামবে টানা পঞ্চম সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে। চট্টগ্রামের অনুশীলনে ছিল সেই আত্মবিশ্বাসের ছোঁয়া। এই বছর বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা হাঁকিয়েছেন সর্বাধিক ছক্কা, আর অন্তত পাঁচ ম্যাচ খেলা দলগুলোর মধ্যে তাদের স্ট্রাইক রেটই সর্বোচ্চ।
পাঁজরের চোটে এশিয়া কাপ ও আফগানিস্তান সিরিজ মিস করার পর এই সিরিজে ফিরেছেন অধিনায়ক লিটন দাস। তাঁর হাতে সামনে আরও ছয়টি ম্যাচ—ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে—যা বিশ্বকাপের আগে নিজেদের মজবুত করে নেয়ার বড় সুযোগ।
লিটন জানালেন, তাঁর লক্ষ্য শুধু জয় নয়, বরং শেখার পরিবেশ তৈরি করা। তিনি বলেন, ‘আমি চাই ব্যাটসম্যানরা, বোলাররা চাপের মধ্যে খেলুক। এই চাপই আমাদের ভবিষ্যতে সাহায্য করবে।’
লিটনের ফেরায় ওপেনিংয়ে দেখা যেতে পারে তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসানকে। চট্টগ্রামের ঘাসে ঢাকা উইকেটে বড় দায়িত্ব পড়বে টপ অর্ডারের ওপর। তবে মিডল অর্ডার নিয়ে চিন্তা থেকেই যাচ্ছে। অনেক ম্যাচেই ভালো শুরু পেয়েও শেষ দিকে ব্যাটিং ভেঙে পড়েছে। লিটন অবশ্য আশাবাদী, ‘কখনো টপ অর্ডার খারাপ করবে, কখনো মিডল অর্ডার। আমরা চেষ্টা করছি এই ঘাটতি পূরণের।’
এখন পর্যন্ত দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ১৯ ম্যাচে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে ৯টিতে, বাংলাদেশ ৮টিতে। এই সিরিজে জিতলে টাইগাররা শুধু সমতায় নয়, এগিয়ে যাবে ইতিহাসের পাতায়ও। বাংলাদেশ এখন শুধু সিরিজ জয়ের পথে নয়, বরং বিশ্বকাপের আগে নিজেদের গড়ে তোলার মিশনে। লিটনের দল চাইছে ঘরের মাঠেই সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত রাখতে।
অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য কেবল একটাই—হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া। এক দল পুনর্জাগরণের পথে, অন্য দল পুনর্গঠনের। ফল যা-ই হোক, চট্টগ্রামের এই লড়াই হয়তো বলে দেবে—কে আসলে কতটা প্রস্তুত আগামী দিনের জন্য।




