সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলের প্রাচীন খাদ্য ঐতিহ্য ‘চুঙ্গাপুড়া পিঠা’ আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। একসময় শীত এলেই গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে এই পিঠা তৈরির উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যেত। শীতের রাতে বাঁশের চুঙ্গায় চালের গুঁড়া ভরে আগুনে পুড়িয়ে পিঠা বানানোর সেই দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চুঙ্গাপুড়া পিঠা তৈরির প্রধান উপকরণ ঢলু বাঁশ ও বিন্নি ধানের চালের সংকটই এর বিলুপ্তির প্রধান কারণ। বন উজাড়ের ফলে ঢলু বাঁশের প্রাপ্যতা কমে গেছে। পাশাপাশি বিন্নি ধানের চাষও দিন দিন কমে আসছে। ফলে এই পিঠা তৈরির খরচ বেড়েছে, আগ্রহও হারাচ্ছেন অনেকে।
বয়স্ক গ্রামবাসীরা জানান, একসময় পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীরা মিলেই চুঙ্গাপুড়া পিঠা বানাতেন। এখন নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই পিঠার নামই শোনেনি। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে সিলেট অঞ্চলের এই স্বতন্ত্র পিঠা সংস্কৃতি ভবিষ্যতে পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা বলছেন, আঞ্চলিক খাদ্য ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ জরুরি। নইলে চুঙ্গাপুড়া পিঠা আগামী প্রজন্মের কাছে শুধু গল্প আর স্মৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে থাকবে।





