মৌলভীবাজার জেলার ৬০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই শহিদ মিনার। মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্থায়ী শহিদ মিনার না থাকায় বঞ্চিত হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ১ হাজার ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪৮টিতে শহিদ মিনার আছে, আর ৬০৩টিতে নেই। যেসব বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নেই, সেখানে অস্থায়ীভাবে কাঠামো নির্মাণ করে দিবসটি পালন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, শহিদ দিবসে অনেক বিদ্যালয়ে কলাগাছ, বাঁশ ও কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহিদ মিনার তৈরি করে শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। আবার কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীরা অন্য প্রতিষ্ঠানের শহিদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে।
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে অনেক বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও ভাষা দিবস ঘিরে সীমিত পরিসরে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তবে স্থায়ী শহিদ মিনারের অভাব শিক্ষার্থীদের ইতিহাসচর্চায় বাধা সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেসরকারি এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন সজিব বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার থাকা অত্যন্ত জরুরি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ থাকা উচিত। সরকারি কিংবা ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার স্থাপন প্রয়োজন।
কমলগঞ্জ উসমানগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়র প্রধান শিক্ষক কাবেরী দে বলেন, তাদের বিদ্যালয়ে এখনো শহিদ মিনার নেই। বহুবার আবেদন করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একটি স্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণ অত্যন্ত প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সফিউল আলম বলেন, জেলার প্রায় অর্ধেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নেই। নতুন সরকারের কাছে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নির্মাণের দাবি জানানো হবে। ভাষা শহিদদের ইতিহাস ও আত্মত্যাগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে এটি জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।





