সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার দীর্ঘ ৪৫ দিন অবস্থানের পর অবশেষে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক প্রদীপ রায়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের রাধাকোনা গ্রামে। গ্রামটির বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন রায় ও মহামায়া রায়ের ছেলে প্রদীপ রায় (২৪)-এর সঙ্গে একই উপজেলার পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের হামছাপুর গ্রামের গবিন্দ বিশ্বাস ও লক্ষী রানী বিশ্বাসের মেয়ে জলি রানী বিশ্বাস (২২)-এর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী জলি রানী বিশ্বাস জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সময়ের মধ্যে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রদীপ একাধিকবার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পাশাপাশি প্রদীপের লেখাপড়া ও অন্যান্য খরচের জন্য তিনি প্রায় ৩ লাখ টাকা দেন বলে অভিযোগ করেন।
পরবর্তীতে বিয়েতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে সুইজ গেইট এলাকায় তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে জলি বিষপান করেন। প্রথমে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হন।
এরপর ১৯ ফেব্রুয়ানী প্রদীপ রায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জলিকে নিজের বাড়ি রাধাকোনায় নিয়ে আসেন। কিন্তু পরদিনই প্রদীপ ও তার মা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। ফলে তাদের বিয়ে আর সম্পন্ন হয়নি। এদিকে জলি একই দিন থেকে প্রদীপের বাড়িতে অবস্থান করতে থাকেন। এ সময় প্রদীপের বাবা তার নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বহন করতেন
১২ মার্চ প্রদীপের বাবা বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এবং ১৭ মার্চ জলির ভাই বালাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেন। বিষয়টি নিয়ে ২৯ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থগিত হয়। পরে ৬ এপ্রিল প্রদীপের বাড়িতে শতাধিক লোকের উপস্থিতিতে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় বৈঠক শেষ করা হয়।
অবশেষে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৫ দিন প্রেমিকে বাড়ীতে অবস্থানের পর বিয়ে না হওয়ায় জলি রানী বিশ্বাস ৭ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে বালাগঞ্জ থানায় নিজে বাদী হয়ে প্রদীপ রায়কে আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রদীপ রায়কে গ্রেফতার করে এবং একই দিন তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বিনয় ভুষণ চক্রবর্তী জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান।
স্থানীয় সাংবাদিক ও এনজিও প্রতিনিধি শাহাব উদ্দিন শাহিন জানান, বিষয়টি গত কয়েক দিন ধরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অবশেষে প্রেমিক ধর্ষনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়।
এদিকে ভুক্তভোগী জলি রানী বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, প্রদীপের পক্ষ থেকে ৪ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন,আমি কোনো আপস চাই না, আমি চাই আমাদের বিয়ে হোক এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক।




