রাত পোহালেই সিলেট সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর আগমনকে ঘিরে পুরো সিলেটজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর প্রথম সিলেট সফর হওয়ায় এ সফর ঘিরে জনমনে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে সিলেটের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনার অবসান ঘটবে।
সফর উপলক্ষে সিলেট নগরের প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও স্থাপনাগুলো নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। রাস্তা মেরামত, সড়ক বিভাজকে বৃক্ষরোপণ, নতুন রং করা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণসহ নগরজুড়ে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সম্পন্ন করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন।
সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টায় আকাশপথে ঢাকা থেকে সিলেটে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন।
বেলা ১১টায় সুরমা নদীর পাড়ের চাঁদনিঘাট এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে নগর ভবনে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন তিনি। পরে বাংলাদেশ ওভারসিজ সেন্টার সিলেটের বহুতল ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
দুপুর ১২টায় সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বেলা ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি। বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় অংশ নিয়ে ঢাকায় ফিরবেন।
সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে কাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) কাজ করছে। পাশাপাশি র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, “নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই, আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।”
এদিকে সফরকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা দেখা গেছে। স্থানীয় প্রশাসনও নির্বিঘ্ন সফর নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।




