জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, চাঁদাবাজ, দুর্নীতি আর দখলদারিত্ব পুরো বাংলাদেশে ছেয়ে গেছে। চুয়াডাঙ্গাবাসীকে আজ আমরা বলতে এসেছি- আপনারা ভয় পাবেন না। আপনাদের সন্তানেরা, ছোট ছোট বাচ্চারা রাজপথে নেমেছিল ফ্যাসিবাদী হাসিনার বিরুদ্ধে, তারা ভয় পাই নাই। বাংলাদেশকে নতুন করে স্বাধীনতা দিয়েছিল, মুক্তি দিয়েছিল আপনাদের সন্তানরা, আমাদের দেশের নারীরা, আমাদের দেশের আলেম সমাজ, আমাদের দেশের হিন্দু-মুসলমান সবাই একত্রে। নতুন করে কোনো ভয়ের সংস্কৃতি আমরা বাংলাদেশে দেখতে চাই না। এলাকার দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব নিয়ে কথা বলুন। যে প্রতিবাদের জোয়ার বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে, সেই জোয়ার বন্ধ করবেন না।
বুধবার (৯ জুলাই) দুপুরে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি উপলক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ হাসান চত্বরে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্য দেন, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সার্জিস আলমের পরিচালনায় পথসভায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মো. ফারুক এহসান, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা প্রমুখ।
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কৃষকের নিহত হওয়ার বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, চুয়াডাঙ্গাসহ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় গত ৫৪ বছরে ধরে সীমান্তে মানুষ হত্যা হচ্ছে। নিরপরাধ বাংলাদেশি মানুষদেরকে, কৃষকদেরকে হত্যা করা হচ্ছে। আমরা এক কৃষকের কথা শুনতে পেলাম, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে (ঝাঁঝাডাঙা সীমান্ত) সাতদিন আগে সীমান্তে তাকে হত্যা করা হয়েছিল, সাতদিন পর তার লাশ ফেরত দিয়েছে। বিএসএফ কোনো সীমান্তরক্ষী বাহিনী নয়, এটি একটি খুনি বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষকে খুন করা তার একমাত্র দায়িত্ব। শেখ হাসিনার সরকার ১৬ বছর ধরে টিকে ছিল গুম-খুন মানুষকে হত্যা করে, এই ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সমর্থনে। আমরা স্পষ্টভাবে বলছি, সীমান্তে হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেব না। বাংলাদেশের জনগণকে, বাংলাদেশের সীমান্তকে, বাংলাদেশের মাটি ও মানচিত্রকে রক্ষা করা বাংলাদেশের ছাত্র-তরুণ-যুবকদের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব আমরা নিয়েছি এবং সেই দায়িত্বের ভিত্তিতেই জাতীয় নাগরিক পার্টি কাজ করবে। মানুষকে রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকে আমরা চুয়াডাঙ্গা থেকে বলতে চাই- গত ৫৪ বছরে হাজারের ওপর মানুষ বাংলাদেশের সীমান্তে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান বললেন- এই চুয়াডাঙ্গা সীমান্তেই ২০০ এর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সীমান্তে গরুচালানকারী বলে, পাচারকারী বলে আবার গরিব কৃষকদেরকেও হত্যা করা হচ্ছে। অথচ গত কোনো সরকার এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে বলব, আপনাদেরকে কঠোর হতে হবে। এমন কোনো সরকারের দিকে আমরা তাকিয়ে থাকব না, বাংলাদেশের জনগণ বাংলাদেশের ছাত্র-তরুণরা অবশ্যই তার সীমান্তকে, মানচিত্রকে, মানুষকে রক্ষা করার পবিত্র দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ভারতের আধিপত্যের কাছে গত ৫৪ বছর বাংলাদেশের মানুষকে গোলামির জীবনযাপন করতে হয়েছিল। এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বারবার ক্ষুণ্ন হয়েছে ভারতীয় আধিপত্য দ্বারা। চব্বিশের আন্দোলনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছিল। সেই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর শেখ হাসিনা নিজেই গুলি চালানোর অর্ডার দিয়েছিলেন। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে গণঅভ্যুত্থানে যে মারণাস্ত্র ব্যবহার হয়েছে তা চালানোর অর্ডার দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এ সকল হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী খুনি হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ। আমাকে আমার পানির ন্যায্য হিস্যা দেওয়া হয়নি। বরং রাজিনৈতিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে বারবার অবদমন করা হয়েছে। এই ভারতের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সমর্থনে আওয়ামী লীগ সরকার ১৬ বছর ক্ষমতায় টিকেছিল।




