যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে প্রতিদ্বন্দ্বীকে কাছ থেকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী, আইমি বেট্রো (৪৫)। নিকাব পরে ছদ্মবেশে হামলার চেষ্টা করলেও অস্ত্র বিকল হয়ে যায়। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। গত বুধবার (১২ আগস্ট) বার্মিংহাম ক্রাউন কোর্ট তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র, ভয় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ এবং অবৈধভাবে গুলি আমদানির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা বেট্রো ছিলেন মোহাম্মদ আসলাম (৫৯) ও তাঁর ছেলে মোহাম্মদ নাবিল নাজিরের পরিকল্পনার অংশ। আসলাম পরিবার ও সিকান্দার আলির পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিশোধ নিতে তাঁরা মার্কিন এই নারীকে যুক্তরাজ্যে ডেকে আনেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বার্মিংহামের ইয়ার্ডলিতে আলির বাড়ির সামনে এই হামলার চেষ্টা চালানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আলি গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে বেট্রো পিস্তল তাক করলেও অস্ত্র কাজ না করায় তিনি পালিয়ে যান। পরে রাতেই তিনি আবারও ট্যাক্সি করে সেখানে গিয়ে খালি বাড়িতে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়েন।
এই হামলার পেছনে কারণ হিসেবে আদালতকে জানানো হয়, আলির বাবা আসলাত মাহমুদের মালিকানাধীন দোকানে সংঘর্ষে আসলাম ও নাজির আহত হওয়ার পর তাঁরা প্রতিশোধ হিসেবে আলি বা তাঁর পরিবারের কাউকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ব্যর্থ হামলার পর বেট্রো আলির বাবাকে মেসেজ পাঠিয়ে বলেন, “তুমি ভাগ্যবান, অস্ত্র আটকে গিয়েছিল।”
বিচার চলাকালে বেট্রো দাবি করেন, তিনি নাজিরের সঙ্গে একটি ডেটিং অ্যাপে পরিচিত হন এবং দুইবার যুক্তরাজ্যে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সময় কাটান। তৃতীয়বার যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল জন্মদিন পালন ও একটি বোট পার্টিতে যোগ দেওয়া। তবে আদালত প্রমাণ পায়, এ সফরের মূল লক্ষ্য ছিল হামলা।
হামলার পর বেট্রো যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান এবং কয়েক বছর আর্মেনিয়ায় লুকিয়ে থাকেন। গত গ্রীষ্মে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এ বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণ করা হয়। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের এক কর্মকর্তা এই অভিযানে “জটিল তদন্ত ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া”র কথা উল্লেখ করে বলেন, এ রায় প্রমাণ করে অপরাধীরা বিচার এড়িয়ে যেতে পারবে না।
বেট্রোর সাজা ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২১ আগস্ট।




