মৌলভীবাজারে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সংক্রমণ রোধে জেলা সদর হাসপাতালসহ প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষ আইসোলেশন কর্নার চালু করা হয়েছে। বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ১৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলা সদর হাসপাতালে বর্তমানে ২০ শয্যার একটি আইসোলেশন কর্নার পুরোদমে কার্যকর রয়েছে। এছাড়া সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ৫ শয্যার আইসোলেশন কর্নার প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সদর হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. আহমেদ ফয়সল জামান জানান, এ পর্যন্ত মোট ৩০ জন রোগী হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে আরও ১৩ জন রোগী ভর্তি আছেন, যাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন মো. মামুনুর রহমান জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতালে এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় সদর হাসপাতালের আইসোলেশন শয্যা সংখ্যা প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, অনেক রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে ঢাকা থেকে রিপোর্ট আসতে কিছুটা সময় লাগছে। প্রতিদিন নতুন করে হামের লক্ষণ নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন, তাই আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জ্বর, শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ, চোখ লাল হওয়া এবং কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্ত রোগীকে পৃথক রাখা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আইসোলেশনে রাখা জরুরি। মৌলভীবাজার স্বাস্থ্য বিভাগ জেলাবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।




